بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।
এই আয়াত দিয়ে বোঝানো হয়, ইসলাম ধর্মে কোনো কাজ শুরু করার আগে আল্লাহর নাম নেয়া অত্যন্ত
গুরুত্বপূর্ণ। এটি আমাদের কাজকে বরকতময় করে এবং মনে করিয়ে দেয় যে, প্রকৃত সাহায্য আসে শুধুমাত্র
আল্লাহর পক্ষ থেকে। "আর-রাহমান" (পরম করুণাময়) ও "আর-রাহিম" (অত্যন্ত দয়ালু) — এই দুটি গুণ নাম
দ্বারা বোঝানো হয় আল্লাহর দয়া দুই ধরনের: সাধারণ (সব জীবের জন্য) এবং বিশেষ (বিশ্বাসীদের
জন্য)।
الْـحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ
আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল ‘আলামিন
সব প্রশংসা আল্লাহর, যিনি সৃষ্টিজগতের পালনকর্তা।
আল্লাহর প্রতি প্রশংসা করা বাধ্যতামূলক, কারণ তিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন, রিজিক দেন, এবং
প্রতিটি মুহূর্তে আমাদের দেখাশোনা করেন। "রব্বুল আলামীন" মানে—তিনি সকল জগতের, সকল সৃষ্টি জীবের
রব্ব (পালনকর্তা)। এই আয়াতে আল্লাহর রুবুবিয়্যতের (পালনকারীর গুণ) স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ
আর-রাহমানির রাহিম
তিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।
আবারও আল্লাহর দয়ার উল্লেখ এসেছে, কারণ এই গুণটি ইসলামে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি শুধু
দুনিয়ায়ই নয়, আখিরাতেও তাঁর বান্দাদের প্রতি দয়া করেন। এই আয়াতে আল্লাহর দয়া ও মাফ করার
ক্ষমতার প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ
মালিকি ইয়াওমিদ-দীন
তিনি বিচার দিনের মালিক।
কিয়ামতের দিন সব মানুষের কর্মফল অনুযায়ী বিচার হবে, এবং সে দিনের একচ্ছত্র মালিক হচ্ছেন
আল্লাহ। দুনিয়াতে অনেক ক্ষমতাবান থাকতে পারে, কিন্তু আখিরাতে কেবল আল্লাহই শাসক হবেন। এই আয়াত
আমাদের মধ্যে ভয় ও দায়িত্ববোধ তৈরি করে।
إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ
ইইয়া-কা না‘বুদু ওয়া ইইয়া-কা নাস্তা‘ইন
আমরা শুধু তোমারই ইবাদত করি এবং শুধু তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি।
একমাত্র আল্লাহরই ইবাদত (পূজা, দোয়া, সালাত ইত্যাদি) করা উচিত এবং তাঁর কাছেই সাহায্য চাইতে
হবে। অন্য কারো কাছে চূড়ান্ত সাহায্য চাওয়া শরিয়তসিদ্ধ নয়। এই আয়াতে তাওহীদের মূল শিক্ষা
রয়েছে—তাওহীদ আল-উলুহিয়্যাহ (ইবাদতের একত্ববাদ)।
اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ
ইহদিনাস সিরাতাল মুস্তাকিম
আমাদের সোজা পথে চালাও।
এটি একটি দোয়া, যাতে আমরা আল্লাহর কাছে হিদায়াত চাই—সেই সরল ও সঠিক পথ, যা আল্লাহর সন্তুষ্টি
অর্জনের পথ। এই পথ হলো ইসলাম, যা কুরআন ও রাসূল (সা.)-এর সুন্নাহ দ্বারা নির্ধারিত।
صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا
الضَّالِّينَ
সিরাতাল লাযিনা আন‘আমতা ‘আলাইহিম, গইরিল মাগদুবি ‘আলাইহিম ওয়া
লাদ-দাল্লিন
তাদের পথ, যাদের তুমি অনুগ্রহ করেছো; তাদের পথ নয়, যারা তোমার গজবে পতিত হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে।
এই আয়াতে আল্লাহর কাছ থেকে সঠিক দিকনির্দেশনা চাওয়া হয়েছে, যাতে আমরা সেই লোকদের পথ অনুসরণ করি
যাঁরা ছিলেন সৎ, আল্লাহপ্রেমিক এবং সফল (যেমন: নবী, সিদ্দিক, শহীদ ও সালেহীন)। আর আমরা যেন
গজবপ্রাপ্ত (যেমন: ইহুদি, যারা জেনে ভুল করেছে) ও পথভ্রষ্টদের (যেমন: খ্রিস্টান, যারা অজ্ঞতাবশত
ভুল পথে গেছে) পথে না চলি।