بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।
এই আয়াত দিয়ে বোঝানো হয়, ইসলাম ধর্মে কোনো কাজ শুরু করার আগে আল্লাহর নাম নেয়া অত্যন্ত
গুরুত্বপূর্ণ। এটি আমাদের কাজকে বরকতময় করে এবং মনে করিয়ে দেয় যে, প্রকৃত সাহায্য আসে শুধুমাত্র
আল্লাহর পক্ষ থেকে। "আর-রাহমান" (পরম করুণাময়) ও "আর-রাহিম" (অত্যন্ত দয়ালু) — এই দুটি গুণ নাম
দ্বারা বোঝানো হয় আল্লাহর দয়া দুই ধরনের: সাধারণ (সব জীবের জন্য) এবং বিশেষ (বিশ্বাসীদের
জন্য)।
قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ ٱلنَّاسِ ١
কুল্ আউযু বিরাব্বিন্ নাস
বল, আমি আশ্রয় চাই মানুষের রবের।
এখানে আল্লাহ আমাদের শেখাচ্ছেন, যেন আমরা সব অনিষ্ট থেকে বাঁচার জন্য প্রথমেই তার কাছে আশ্রয় চাই। তিনি মানুষদের 'রব' — যিনি সৃষ্টি করেছেন, রিযিক দেন, লালন পালন করেন, এবং হিদায়াত দেন। সব সমস্যার সমাধান তিনিই করতে পারেন।
مَلِكِ النَّاسِ ٢
মালিকিন্ নাস
মানুষের মালিকের।
আল্লাহ শুধুই প্রভু নন, তিনি আমাদের প্রকৃত মালিকও। মানুষ নিজেকে স্বাধীন ভাবে, কিন্তু প্রকৃত স্বাধীনতা আল্লাহর। তিনি যা ইচ্ছা করেন, যাকে ইচ্ছা দেন, যাকে ইচ্ছা পরীক্ষা নেন। তাঁর মালিকানার বাইরে কিছুই নেই।
إِلَـٰهِ النَّاسِ ٣
ইলাহিন্ নাস
মানুষের ইলাহ (উপাস্য) এর।
তিনি শুধু রব বা মালিকই নন, বরং একমাত্র ইলাহ — অর্থাৎ উপাসনার যোগ্যও তিনিই। আমরা যা কিছু ভালোবাসি, যার উপর নির্ভর করি, যাকে ভয় করি — যদি তা আল্লাহ না হন, তাহলে সেটা শিরক হতে পারে। তাই আমাদের উপাস্য কেবল একমাত্র আল্লাহ হওয়া উচিত।
مِن شَرِّ ٱلْوَسْوَاسِ ٱلْخَنَّاسِ ٤
মিন্ শার্রিল ওয়াস্ওয়াসিল খান্নাস
সেই কুমন্ত্রণা দানকারী অপসারক (শয়তান)-এর অনিষ্ট থেকে।
এই আয়াতে বলা হয়েছে, এক ধরণের ক্ষতি হচ্ছে কুমন্ত্রণা। এটি খোলাখুলি নয়, বরং গোপনে মানুষের অন্তরে ঢুকে পড়ে। শয়তান মানুষের মনে সন্দেহ, ভয়, অহংকার, হিংসা, লোভ ঢুকিয়ে দেয় — এটি খুব ধীরে, নিঃশব্দে ঘটে। আর যখন মানুষ আল্লাহকে স্মরণ করে, তখন সে পিছু হটে — তাই তাকে বলা হয়েছে “আল-খান্নাস” (গোপনে লুকিয়ে পড়া)।
ٱلَّذِى يُوَسْوِسُ فِى صُدُورِ ٱلنَّاسِ ٥
আল্লাযি ইউওয়াস্উইসু ফি সুদূরিন্ নাস
যে (শয়তান) মানুষের অন্তরে কুমন্ত্রণা দেয়।
শয়তান মানুষের বাহিরে নয়, বরং অন্তরের ভেতর প্রবেশ করে কুমন্ত্রণা দেয়। অন্তর হলো মানুষের নেতৃত্বকেন্দ্র — এখান থেকে ভালোমন্দ সিদ্ধান্ত হয়। তাই শয়তান চায় আমাদের হৃদয়কে দূষিত করতে, যাতে আমল, বিশ্বাস ও চরিত্র ধ্বংস হয়।
مِنَ ٱلْجِنَّةِ وَٱلنَّاسِ ٦
মিনাল জিন্নাতি ওয়ান্ নাস
জিন ও মানুষের মধ্য থেকে।
শয়তান শুধু জিনদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় — মানুষের মধ্যেও শয়তানি বৈশিষ্ট্যের অনেকে থাকে। যেমন: কেউ ভুল পথে টানে, কেউ ঈমান নষ্ট করে, কেউ সঠিক পথ থেকে সরিয়ে দিতে চায়। এরা সকলেই ‘মানবীয় শয়তান’। তাই আমাদের উচিত সব ধরণের কুমন্ত্রণা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া।